
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার নিয়োগের উদ্দেশ্যে দ্রুতই একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ. গত ১৫ জুন (সোমবার) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুদক গঠনের জন্য সার্চ কমিটি তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি গতকাল তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন. গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করার পর থেকে সংস্থাটি সম্পূর্ণ নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে. সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার আন্তরিক ছিল না—এমন ধারণা সঠিক নয়; মূলত এত দিন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় এটি আটকে ছিল, যা গতকাল কেবল সই হয়েছে. তিনি এটিকে একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তীতে সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা হবে, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কমিশনকে কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনের অধীনেই এই সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে.
এর আগে সংসদে বক্তব্য রাখার সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অন্তর্বর্তী সরকারের পাস করা দুদক অধ্যাদেশ অনুমোদন না করায় বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন. তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুদক আইন সংশোধনের অধ্যাদেশটি অনুমোদন না করার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সরকার দুদককে শক্তিশালী না করে নখদন্তহীন রাখার পুরোনো সংস্কৃতিই বজায় রাখছে. শক্তিশালী দুদক থাকলে তা সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনবে বলেই সরকারগুলো একে ভয় পায় এবং এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের অসততাই প্রকাশ পায় বলে তিনি মন্তব্য করেন. বাংলাদেশে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রকে দুর্নীতির সাথে সবচেয়ে বেশি যুক্ত দুটি পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে দুদককে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করা হয়নি.
বক্তব্যের শেষ অংশে রুমিন ফারহানা অতীতে বাংলাদেশের টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে স্থান পাওয়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দেন. তিনি বিগত সময়ের ‘ছাগল কেলেঙ্কারি’, ‘বালিশকাণ্ড’ মামলা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অনিয়ম এবং এক পিয়নের ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের মতো আলোচিত ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন. এর পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ, ভুয়া কোম্পানি, খেলাপি ঋণ, হুন্ডি লেনদেন, বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন বড় আর্থিক অনিয়ম এবং স্বাস্থ্য খাতের ‘মিঠু সিন্ডিকেট’সহ বড় বড় প্রকল্পের নিয়োগ ও ক্রয়ের সিন্ডিকেটের অভিযোগগুলোও তিনি সংসদে তুলে ধরেন.